তুমি কি এখনও হাই স্কুল বা কলেজের গন্ডি পার হওনি? আজকের টপিক তোমার জন্যই!

আমাদের দেশে স্ট্যান্ডার্ড এইট বা নাইনের তো দূরে থাক- ইন্টারমেডিয়েটের ছেলে মেয়েদেরকেও ক্যারিয়ার নিয়ে স্বাধীন চিন্তা করতে দেয়া হয় না। অথচ, স্ট্যান্ডার্ড নাইনের আগেই এটা স্থির করে ফেলা উচিৎ। কেননা সেটার উপরে পরবর্তী শিক্ষা জীবনের জন্য নিজের বিভাগ বেছে নিতে হয়।
পৃথিবীতে সব কিছুর প্ল্যানিং হয় না- এটা যেমন বাস্তব, ঠিক তেমনি- প্ল্যানিং না করার উপরেই ডিপেন্ড করে সারাটা জীবনের এমন এক পেশা বা ক্যারিয়ার, যেটাকে তুমি জীবনেও আপন করে নেবে না। কাজের প্রতি ভালবাসা থাকতে হবে। আর সেটা আসবে ভালবাসার কাজটাকেই উপার্জন করার মাধ্যম বা ক্যারিয়ার বানাতে পারলে।
এখন তুমি হয়ত বলবে, পড়ার অনেক চাপ…। বোর্ড পরীক্ষা চলে আসছে সামনে। এছাড়া অনলাইন ক্লাস, কিংবা স্কুল-কলেজ খুলে গেলে পরে তো আরো কত প্যারা! আচ্ছা… তোমাদের এই প্যারা গুলো বন্ধুবান্ধব আড্ডা-চিল এবং পাবজি-ফ্রি ফায়ার কিংবা এ্যানিমি সিরিজ দেখার সময় কই থাকে? এ্যাভেঞ্জার্স এন্ড গেইম কিংবা জাস্টিস লীগ?
মুভি বাদ দিলাম… আমার টিনেজ সময়ে মাইকেল শুমাখারের কথা বললে মানুষ হা করে থাকত। তোমরা লুইস হ্যামিল্টন কিংবা ভ্যালেন্টিনো রোসির মটোর স্পোর্টস দেখে বড় হওয়া প্রজন্ম। তোমাদেরকে তো খুব সহজে নিজের বুঝটা বুঝে নিতে হবে।

তোমাকে একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে। আর তা হচ্ছে- তুমি কী করবে?

হ্যাঁ! এটা বলতেই তুমি হয়তো বলবে, এগুলো আমার বিষয় না। এটা আমার প্যারেন্টস ঠিক করবে। অথবা বলবে, আমি এসবের কি বুঝি? এগুলো তো আমাদের অভিভাবক এবং টিচাররা ভালো বুঝবেন।
প্লিজ কাম অন… ফর গড সেক এইসব ফালতু অজুহাত ছাড়ো। তোমার জীবন। এটা কি তোমারই সবচেয়ে ভালো বোঝা উচিত না?
একটা ছোট্ট কাজ করবে। একটা সময় বেছে নিয়ে একটু ঠান্ডা মাথায় ভাববে।
কী ভালো লাগে তোমার সবচেয়ে? সেটা কি কোন সাবজেক্ট? সেটা কি কোন এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি? সেটা কি থ্রিলিং কোন কিছু? কোন কিছু নিয়ে অ্যাডভেঞ্চার করতে ভালো লাগে? কল্পনায় নিজেকে কোন চরিত্রে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে?
যদি তোমার রাজ্যের ব্যস্ততা থেকে একটু সময় বের করে এইটা নিয়ে ভাবতে পারো, তাহলে দেখবে অনেক সহজেই নিজের জীবনের লক্ষ্য স্থির করে ফেলেছো। আর অলরেডি হয়ত সেটা করেও ফেলেছো। তোমার রাজ্যে তুমি নিজে যদি রাজা হতে না পারো, অন্য কেউ এসে তোমাকে সিংহাসনে বসাবে না।
তাই নিজের সবচেয়ে পছন্দের বিষয়টাকে ঘিরে ভবিষ্যত ক্যারিয়ার এর জন্য প্ল্যান করো। নিজের জন্য কাজ করো। পড়া, খাওয়া, খেলা, নামাজ, ঘুম – এগুলোর পাশাপাশি নিজেকে আরেকটু ডিসিপ্লিনড করে ফেলো। যেটা নিয়ে ভালো লাগে, যেই জায়গাতে নিজেকে ভবিষ্যতে দেখতে চাও, সেটা নিয়ে একটু ঘাটাঘাটি করো।
অন্য কেউ এসে তোমাকে কোন একটা কাজ ধরিয়ে দেবে, আর অপছন্দ সত্যেও সেটাই তোমায় করতে হবে… এটা একেবারে খারাপ হবে না তোমার জন্য? তাই বলবো, একটু সময় দাও। ভাল কিছু শেখো। স্কিল ডেভেলপ করো। নিজেকে পরিণত করো। যোগ্য হিসেবে সম্মান অর্জন করো।
যখন তোমার উপার্জনের সময় হবে, যখন তোমাকে নিজের পায়ে দাড়াতে হবে, যখন তোমাকে কিছু একটা করতে হবে… তখন যেন তুমি সেটাই করো, যেটা করতে তুমি ভালোবাসো। যেটা তুমি অনেক ভালোভাবে পারো। যেটা তুমি করতে অভিজ্ঞ, যেটা নিয়ে তোমার অনেক জ্ঞান আছে।
যেটা নিয়ে তুমি অনলাইনে অনেক ঘাটাঘাটি করেছো, ইউটিউব দেখে শিখেছো। তখন দেখবে শিক্ষাজীবন থেকে কর্মজীবনে পা রাখার পরেও, নিজেকে অনেক বেশি আপন মনে হবে। নিজের স্বত্বা নিজের মধ্যেই থাকবে। হতে পারে তুমি কোন জব করবে- তবে তখন নিজেকে এমন একটা জবে পাবে, যেটাতে তোমার নিজেকে পারফেক্ট ভাবে প্রকাশ করতে পারছো। এমন কিছু করছো, যেটাতে ইউ আর দ্যা বেস্ট।
আর এমন একটা গ্রেট সময়ের জন্য, এখনকার হেলায় নষ্ট করা সময়টাকে আরেকটু ভালোভাবে ম্যানেজ করতে হবে, এই যা! 🙂
ইতি –
তোমার মেন্টর…