সুর্যের চারপাশে আবর্তনরত ধুমকেতুগুলোকে দুভাগে ভাগ করা যায়।

i) স্বল্পস্হায়ী ধূমকেতু (Short Period Comet) এবং

ii) দীর্ঘস্হায়ী ধূমকেতু (Long Period Comet)।

সৌরজগতে ধুমকেতুগুলো অতীতে ঠিক কিভাবে সৃষ্টি হয়েছিলো তা বেশ অজানা।
তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় ধারনা করা হয়, সৌরজগত সৃষ্টির সময়ই ধূমকেতুগুলো কোনভাবে সৃষ্টি হয়েছিলো
এবং সেগুলো স্হায়ীভাবে সৌরজগত সৃষ্টির পর অবশিষ্ট বস্তু দ্বারা গঠিত কুইপার বেল্ট এবং ওর্ট মেঘেই অবস্হান করছে।
ধারনা করা হয়, স্বল্প মেয়াদী কক্ষপথের ধূমকেতুগুলোর সৃষ্টি হয় কুইপার বেল্ট থেকে এবং দীর্ঘ কক্ষপথের ধুমকেতুগুলো সৃষ্টি হয় ওর্ট মেঘ থেকে।
কুইপার বেল্ট ওর্ট মেঘ থেকে সুর্যের নিকটবর্তী হওয়ায় সেখান থেকে আসা ধুমকেতুর সুর্যকে আবর্তন করতে সময় লাগে কম।

এরকম ধুমকেতুর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরন হলো হ্যালির ধূমকেতু, যার আবর্তন কাল প্রায় ৭৬ বছর।
আর, তাই তা ৭৬ বছর পর পর সুর্যের নিকটবর্তী হয় এবং তাকে আমরা দেখতে পাই।
কিন্তু ওর্ট মেঘ অনেক দুরে থাকায় সেখান থেকে আসা ধুমকেতুগুলোর আবর্তনে সময়ও লাগে অনেক।
এমনকি অনেক ধূমকেতুর তা কয়েক মিলয়ন বছরও লেগে যায়।
যেমনঃ হায়াকুটেক (Comet Hyakutake) ধুমকেতু প্রায় প্রতি ৭০,০০০ বছরে সুর্যকে প্রদক্ষিণ করে।
আর তাই তাকে আমরা প্রতি ৭০,০০০ বছর পর পর দেখতে পাবো।
সুদুর অতীত থেকেই ধুমকেতুগুলো সৌরজগতের এসব দুরবর্তী অন্ঞ্চলে থেকে সুর্যকে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে চলেছে।
স্বল্পমেয়াদী ধূমকেতুগুলোর আবর্তনকাল সাধারনত ২০০ বছরের মধ্যেই হয় এবং দীর্ঘমেয়াদী ধুমকেতুগুলোর তা ২০০ বছর হতে বহু হাজার বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে।

.ধুমকেতুর নামকরণ করা হয় যেভাবে:

ধুমকেতুর নামকরণ করা হয় সাধারনত তার আবিষ্কারকের নামানুসারে৷
যেমনঃ এডমন্ড হ্যালি কতৃক আবিষ্কৃত ধুমকেতুর নাম রাখা হয় Hally’s Comet,
ক্যারোলিন শোমেকার এবং ডেভিড লেভি কতৃক আবিষ্কৃত ধুমকেতুর নামকরন করা হয় Shoemaker-Lavy-9।
তবে আবার বিভিন্ন মিশন চালনার মাধ্যমেও ধুমকেতু শনাক্ত করা হয়। তখন তাদের নামকরণ করা হয় সেসব মিশনের নামানুযায়ী।

যদি কোন ধুমকেতু কোনভাবে দু’জন কতৃক আবিষ্কৃত হয় তবে প্রথম আবিষ্কারকর্তার নামেই ধুমকেতুর নামকরন করা হয়।
কোন ধুমকেতুর নামের পুর্বে যদি “C” উল্লেখ থাকে তবে এ দ্বারা বোঝায় ধুমকেতুটি Long Period Comet, যার আবর্তনকাল ২০০ বছরের বেশি।
যদি নামের আগে “P” থাকে তবে এর মানে ধুমকেতুটি Short period comet এবং periodic,
যার দ্বারা বোঝায় ধূমকেতুটির আবর্তনকাল ২০০ বছরের কম এবং তা নির্দিষ্ট সময় পর পর পুনরায় সুর্যের নিকট আসে।
যেমনঃ হ্যালির ধুমকেতু। যদি নামের আগে “D” থাকে তা দ্বারা বোঝায় “Destroyed”, এর মানে ধুমকেতুটি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।
যেমনঃ D/Shoemaker-Levy 9, এটি ধ্বংস হয়ে যাওয়া ধুমকেতু।
এরকমভাবে ধুমকেতুর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বিভিন্ন কিছু অক্ষরযুক্ত করে এদের নামকরন করা হয়।

পৃথিবীতে পানির প্রাথমিক উৎস হিসাবে ধুমকেতুকেই দায়ী করা হয়।
সুদুর অতীতে সৌরজগতের গ্রহগুলো সৃষ্টির সময় পৃথিবীতে অনেক ধুমকেতু আছড়ে পড়তো এবং এতে ধূমকেতুতে থাকা পানি জমা হতে থাকে পৃষ্ঠে।
এতে করেই পৃথিবীতে পানির সন্ঞ্চারণ ঘটে।
তবে সমস্ত পানির উৎস না হলেও নূন্যতম সাগর মহাসাগরের পানির প্রধান অংশই ধুমকেতু থেকে এসেছে বলে গবেষণায় পাওয়া গেছে।
আপনি কি মনে করেন এ ব্যাপারে তা কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না,
আজ এ পর্যন্তই , ভালো লাগলে লাইক করুন,বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
আর এমনি মজার সব তথ্য পেতে আমাদের  সাবস্ক্রাইব করে দিন
সবসময়ের মতই পড়ার জন্য ধন্যবাদ

আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন এবং আমাদের ভিডিওগুলো দেখতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি ঘুরে আসুন

Read More:

কিভাবে বুঝবেন আপনার কাছের মানুষ মানসিক রোগ এ আক্রান্ত কি না?

বুদ্ধিমান বা স্মার্ট হওয়ার কিছু সহজ উপায় বা কার্যকরি পন্থা

ওয়েবসাইট তৈরিতে করনীয়, ওয়েব সাইট বানাবার আগে আপনার যা জানা দরকার

প্যারালাল ইউনিভার্স কি? প্যারালাল ইউনিভার্স সম্পর্কে বিস্তারিত ধারনা!

মেয়েদের ব্যাপারে কিছু অজানা তথ্য ও সাইকোলজিক্যাল পরিসংখ্যান