এবার নিজেই নিলামে তুললেন নিজের বিখ্যাত চশমা ,কিন্তু কেন?
এক সময় পেশাদার পর্নস্টার হওয়ার জন্য মিয়া খলিফা খুনের হুমকি দিয়েছিল কট্টরপন্থীরা। নিজের দেশ লেবাননেও প্রবেশাধিকার হারান। কিন্তু দেশের সংকটে তিনি চুপ করে থাকলেন না। ভয়াবহ বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত লেবাননের জন্য অর্থসংগ্রহ করতে নিজের বিখ্যাত চশমা নিলামে তুললেন প্রাক্তন পর্নস্টার মিয়া খালিফা। আর সংগৃহীত অর্থ তিনি ত্রাণে তুলে দিতে চান।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় মিয়া খলিফা জানিয়েছেন, তাঁর বিখ্যাত চশমা তিনি নিলামে তুলছেন। সেটি বিক্রি করে যে অর্থ তিনি পাবেন, তা বিস্ফোরণ বিধ্বস্ত দেশের রেড ক্রসের ত্রাণ তহবিলে তুলে দিতে চান। তিনি ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘আমি শুধু সৃজনশীল হওয়ার চেষ্টা করছি। অনেকে অনেকভাবে ত্রাণ সংগ্রহ করতে পারেন। তবে চাই না এই বিপর্যয়ের সময় আলোচনাটা অন্যদিকে ঘুরে যাক।’
মিয়া চশমাটি ই-বেয়'তে নিলামে তুলেছেন। সেটির মূল্য আপাতত এক লাখ ডলার ওঠেছে। নিলাম চালু থাকবে শনিবার বিকাল পর্যন্ত। এই নিলাম থেকে যা অর্থ উঠবে তা পুরোটাই লেবাননের রেড ক্রসের হাতে তুলে দেবেন মিয়া।
মিয়া খলিফা:
(আরবি: ميا خليفة, জন্ম: ফেব্রুয়ারি ১০, ১৯৯৩), এছাড়াও মিয়া ক্যালিস্টা নামেও পরিচিত, একজন লেবানিয়-মার্কিন সামাজিক মাধ্যম ব্যক্তিত্ব, ওয়েবক্যাম মডেল এবং প্রাপ্তবয়স্ক মডেল, যিনি ২০১৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পর্নোগ্রাফিক অভিনেত্রী হিসেবে সংক্ষিপ্ত কর্মজীবনের জন্য পরিচিত। বৈরুতে জন্ম নিয়ে খলিফা ২০০০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরিত হন। অক্টোবর ২০১৪ সালে তিনি পর্নোগ্রাফি চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন এবং ডিসেম্বরে পর্নহাব ওয়েবসাইট তালিকায় শীর্ষ স্থানে অবস্থান নেন। তার পেশা নির্বাচন মধ্যপ্রাচ্যে বিতর্কের বিষয় হয়েছিল, বিশেষ করে একটি ভিডিও, যেখানে তিনি ইসলামিক হিজাব পরিহিত অবস্থায় যৌনকর্ম সঞ্চালন করেছিলেন। যদিও প্রায় তিন মাস পরই তিনি পর্ন শিল্প থেকে অবসর নিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি ক্রীড়া ভাষ্যকার হিসেবে কাজ করছেন।প্রাথমিক জীবন
খলিফা ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৩ সালে লেবাননের বৈরুতে জন্ম নেন। পরবর্তীতে দশ বছর বয়সে, দক্ষিণ লেবাননের দ্বন্দ্বের জোরে জানুয়ারি ২০০১ সালে পরিবারের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরিত হন। তার পরিবার ছিল ক্যাথলিক এবং তিনি সেই ধর্মের অধীনে "অত্যন্ত রক্ষণশীল" পরিবারে বেড়ে উঠলেও পরবর্তীতে তার অনুশীলন করেন নি। তিনি বৈরেুতের একটি ফরাসি বেসরকারি বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন, যেখানে তিনি ইংরেজি শিখেছিলেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসার পর তিনি মন্টগোমেরি কাউন্টি, মেরিল্যান্ডে বসবাস করেন এবং সেখানকার উচ্চ বিদ্যালয়ে ল্যাক্রোসি বাজাতেন। খলিফা "সেখানকার সবচেয়ে কৃষ্ণাঙ্গ এবং অদ্ভুত মেয়ে" হিসেবে উচ্চ বিদ্যালয়ে উত্যক্তির শিকার হওয়ার কথা বলেছেন, যা ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পরে তীব্রতর হয়ে উঠেছিল।২০১৫ সালে তিন মাসের মধ্যে ১১টি পর্নোগ্রাফিতে দেখা গিয়েছিল মিয়া খলিফাকে। যার মধ্যে হিজাব পরে একটি নীল ছবি ঝড় তুলেছিল গোটা বিশ্বে। ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর মিয়াকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় কট্টরপন্থীরা। পরে মিয়া জানিয়েছিলেন, পর্ন ইন্ডাস্ট্রিটে পা রেখে তিনি অনুতপ্ত ছিলেন।
পর্নোগ্রাফি পেশা
কলেজে অধ্যয়নের সময় খলিফা বারটেন্ডার হিসাবে কাজ করতেন এবং কিছু মডেলিংয়ের কাজও করেছিলেন। তিনি ডিল অ্যান্ড নো ডিল-এর মতোন স্থানীয় স্পেনিয় ভাষার টেলিভিশন গেম শোতে "ব্রিফকেস গার্ল" হিসাবে অভিনয় করেছিলেন। স্নাতক শেষ করার পরে, তিনি মিয়ামিতে চলে আসেন এবং নগ্ন মডেলিংয়ে কাজ করার জন্য তটস্থ ছিলেন। ২০১৪ সালের অক্টোবরে, খলিফা পর্ণোগ্রাফি চলচ্চিত্র শিল্পে প্রবেশ করেন। মিয়ামিতে হেটে বেড়ানোর সময় তাকে জিজ্ঞেস করা হয় যে, তিনি পর্নোচলচ্চিত্রে কাজ করতে আগ্রহী কি না। হিজাব পরিহিত অববস্থায় থ্রিসামকালীন একটি ব্যাংব্রোস দৃশ্যে অভিনয়ের কারণে তিনি ব্যাপকভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। এই দৃশ্যটি খলিফাকে তাৎক্ষণিক জনপ্রিয়তার পাশাপাশি লেখক এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সমালোচনার মুখোমুখি এনেছিল। দৃশ্যটির প্রযোজক বলেছিলেন, "আমরা [খলিফার জাতিগোষ্ঠীত্ত্ব] সুযোগের সদব্যবহার করার চেষ্টা করছিলাম না। আমরা এটি অভিষঙ্গ করতে চেয়েছিলাম। যদিও এর নেতিবাচকতা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।" এক্সহ্যামস্টারের বিপণনের উপ-সভাপতি অ্যালেক্স হকিন্স বলেছিলেন, "আরব বিশ্বে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল তা কিছুটা 'স্ট্রাইস্যান্ড এফেক্ট' হয়ে দাঁড়িয়েছিল। হঠাৎ, সবাই খলিফার সার্চ করছিল। তাকে সেন্সরের প্রচেষ্টা তাকে আরো সর্বব্যাপী করে তুলেছিল।"২০১৫ সালের হিসেবে, ১.৫ মিলিয়নেরও অধিক দর্শকসংখ্যার পাশাপাশি, ২২ বছর বয়সী খলিফা প্রাপ্তবয়স্ক ভিডিও শেয়ারিং ওয়েবসাইট পর্নহাবের সর্বাধিক অনুসন্ধানকৃত মডেল হিসেবে উন্নীত হন। সে বছর ২৮ ডিসেম্বরে পর্নহাব তাদের ওয়েবসাইটে নাম্বার ১ স্থানে খলিফার নাম প্রকাশ করে বহুদর্শী লিসা অ্যানের পরিবর্তে।পর্নোগ্রাফি-পরবর্তী কর্মজীবন
পর্নোগ্রাফি কর্মজীবন থেকে অব্যহতী নেবার পর, মিয়া খলিফা মিয়ামিতে প্যারালিগাল এবং বুককিপার হিসাবে কাজ করেন। একজন সামাজিক মাধ্যম ব্যক্তিত্ব হিসাবে তিনি নিজেকে প্রকাশ করেন, পাশাপাশি ওয়েবক্যাম মডেল এবং ক্রীড়া ভাষ্যকার হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি একটি ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনা করেন; টুইচ লাইভ স্ট্রিমস এবং ওয়েবক্যাম মডেল হিসাবে পরিবেশন করেন। সদস্যতা ওয়েবসাইট প্যাট্রিয়নে আলোকচিত্র শুট, পণ্যদ্রব্য এবং একচেটিয়া সামগ্রীতে প্রবেশাধিকার বিক্রি করেন; এবং সামাজিক মাধ্যম ওয়েবসাইট ফাইন্ড্রোতে সুব্যক্ত আলোকচিত্র শুট এবং ভিডিও বিক্রয়ে নিয়োজিত হন। তিনি এবং গিলবার্ট অ্যারেনাস কমপ্লেক্স নিউজের ইউটিউব চ্যানেলের ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দৈনিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান আউট অব বাউন্ডস সঞ্চালনের দ্বায়িত্বে ছিলেন। টাইলার কো-এর পাশাপাশি খলিফাকে স্পোর্টসবল-এর সহ-আয়োজক হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল, যেটির দ্বিতীয় মরসুমের ২০১৮ সালের ১৬ জুলাই এককভাবে রোস্টারটিথে প্রচারিত হয়েছিল। এর চূড়ান্ত পর্বটি ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত হয়েছিল। ২০১২ সালের বিবিসির হার্ডটালকের এক সাক্ষাৎকারে খলিফা পর্ন শিল্প এবং এর গোপনীয়তার ক্ষতির বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছিলেন Follow Us On Facebook See Our Video On YouTubeসূত্রঃ গ্লোবাল নিউজ।