আমি নিজেও এ ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি। আমি একটা কথা প্রায়ই বলি, সেটা হচ্ছে নিজেকে ভালোবাসতে হবে।

যাকে ভালোবেসেছিলাম তাকে ভুলে যাওয়ার উপায় আদওতে আছে কিনা জানিনা 

আমরা সবসময়ই অন্যদের নিয়ে ভেবে মনকে এত বেশি ব্যস্ত রাখি যে নিজের জন্য কোনো সময়ই হয়না। এটা করতে পারলে জীবনটা খুব সহজ হয়ে যায়। অন্যদের থেকে এক্সপেকটেশনটা কমে যায়। নিজের উপর অন্যকে নিয়ন্ত্রণ নিতে দেবেন না, তাতে আত্মার শান্তি নষ্ট হয়। তেমনিভাবে আপনিও কাউকে নিয়ন্ত্রণ করতে যাবেন না।

সময় সব ঠিক করে দেয়। Time heals almost everything. Give time. ব্রেক আপের পর কিছু সময় যাকে ভালোবাসেন তাকে চাইলেও ভুলতে পারবেন না। সম্ভবই না। কাজের চাপে হয়তো সাময়িক ছুটি নেবে সে চিন্তা থেকে।কোন কিছু নিয়ে ডুবে থাকলে হয়তো মনে হবে ভুলে যাচ্ছি। মনে আসছে না। কিন্তু যখন আবার বন্ধুবান্ধব, পরিবার, কাজ শেষে একা হয়ে যাবেন সে চলে আসবে সামনে।

বিভিন্ন ভাবে নিউরনে রয়ে যাওয়া তার মুখ, কথা, হাসি মনে পরবে। মনে মনে বলবেন- হে ঈশ্বর কতটা চোখের জলে সব কষ্ট ধুয়ে মুছে যায় বলতে পারো? কিন্তু বেশ কিছু সময় যখন চলে যাবে তখন মন মেনে নেয়, প্রতিবাদ করে না। আর আমি ব্যাক্তিগত ভাবে বিশ্বাস করি– যার সাথে কিছু হয় নাই তা সেটা যে কারনেই হোক ভালোর জন্য হয়েছে। হয়তো আপনার কষ্ট হচ্ছে।

মনে হচ্ছে সেই পারফেক্ট ছিল কিন্তু যখন সে থাকলোই না মেনে নেয়াই ভাল। ভেবে কি হবে? পাবেন তাকে? জীবনে চলে আসবে? আসবে না। পাবেন না। তাই মেনে নিলে আপনি নিজে ভাল থাকবেন।আমরা সবাই জীবন একবার পাই । কাজেই অতীতের মানুষ নিয়ে ভাবনা চিন্তা বেশি করলে বর্তমান বিষাক্ত হয়ে যায় , ভবিষ্যৎ নতুন কারো হাত ধরে শুরু করা যায় না। কাজেই সিধান্ত নিজেকেই নিতে হবে ।

শরৎ চন্দ্রের দেবদাস হয়ে থাকব নাকি অতীত জীবন ভুলে সুন্দর করে নতুন ভাবে শুরু করব!

আপনাকে নিজেকে ভালোবাসার কিছু উপায় বলে দিচ্ছি –

আরও পড়ুন:

যে প্রশ্ন করে মানুষের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পারি?

টেলিপ্যাথি কী? টেলিপ্যাথি’র মাধ্যমে কীভাবে যোগাযোগ হয়ে থাকে?

১. মন খারাপ দূর করতে নিজেকে কিছু গিফট করুন। নতুন কিছু পেলে আমাদের মন ভালো হয়ে যায়। এটা আমার খুব কাজে দেয়। আমি নিজের টাকায় নিজের জন্য কিছু কিনি।

২. বন্ধুদের সাথে কথা বলুন। অবশ্যই সমস্যা নিয়ে না, পূর্বের কোন আনন্দময় সময় নিয়ে আলাপ করুন।

৩. একা ভালো কোনো রেস্টুরেন্টে খেয়ে আসুন।

৪. নতুন কিছু শিখার চেষ্টা করুন। এটাও ব্যস্ত থাকার একটা কৌশল।

৫. পরিবারে সময় দিন। কারো কোনো কাজে হেল্প লাগলে, করুন।

৬. বসে বসে নিজের মনে আসা সারাদিনের খারাপ চিন্তাগুলোর লিস্ট করুন। এবং এগুলোর যৌক্তিকতা কতটুকু তা ভাবুন। তাহলে দেখবেন, অন্যের ভুলগুলো ও ছোট হয়ে আসবে।

৭. বই পড়ুন। সত্যি এটা ১০০%কার্যকরী। বই পড়লে আমরা অন্য জগতে চলে যাই, তখন আর কোনো কিছুই মনে থাকে না। এবং বই শেষ করার পরও অনেক সময় পর্যন্ত এর কাহিনী আমাদের মাথায় ঘুরতে থাকে।

৮. কমেডি ফিল্ম অথবা আর্ট ফিল্ম দেখুন।

এসব কিছুই নিজের মনকে ব্যস্ত রাখার কৌশল। এ কাজ গুলো একান্তই আমার নিজস্ব অভিমত। তবে আমি কোনো এক্সপার্ট নই। কখনো কোন মানুষের কাছ থেকে ১০০% এক্সপেকটেশন রাখা ঠিক না। তাদের জন্য যথেষ্ট স্পেস রাখবেন, তাহলে কষ্ট কম পাবেন।  আর যদি স্পেস নাও পান তাহলে ভুলে যাওয়ার উপায় খুজতে হবে না এমনিতেই ভুলে যাবেন ।

 এক এক জন আলাদা আলাদা পদ্ধতিতে এই জীবন সংগ্রামে এগিয়ে যায় ধীরগতিতে! আপনিও আপনার মনমত কিছু করার চেষ্টা করুন! তবে খেয়াল রাখবেন ধ্বংসাত্মক কিছু করে যেন নিজের ক্ষতির কারণ না হন! অলীক স্বপ্ন থেকে নিজেকে রাহুমুক্ত করুন, বাস্তবতায় ফিরে আসুন।

ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন

ধন্যবাদ!