এর আগে আমরা জেনেছি কিভাবে ধুমকেতু জন্ম হয় এবং কিভাবে নামকরন করা হয়,

এ পর্বে আমরা কথা বলব ধুমকেতু শেষ পরিনতি নিয়ে :

কুইপার বেল্ট ও ওর্ট মেঘে থাকা অবস্হায় ধুমকেতুগুলো মোটামুটি সুস্থ অবস্থায় থাকে।
কিন্তু যখন তাদের সে কক্ষপথ পরিবর্তিত হয়ে সৌরজগতের ভেতরে সুর্যের দিকে অগ্রসর হতে থাকে তখন থেকেই তাদের অবস্হা অস্থিতিশীল হয়ে যায়।
সুর্যের নিকট প্রথম আবর্তনটি সম্পন্ন করতে পারে এবং এরপর পুনরায় তার উৎপত্তিস্হল ওর্ট মেঘ বা কুইপার বেল্টে চলে যায়।
এরপর দ্বিতীয়বার যখন আবার আবর্তনরত অবস্হায় সূর্যের নিকটতম স্হান তথা তার অনুসূর অবস্থানে আসে তখন
অনেক সময় সুর্যের গ্র্যাভিটিতে আটকা পড়ে তা আর মুক্তি পেয়ে পুনরায় যেতে পারে না, সূর্যে পতিত হয়।

 

সরাসরি সুর্যের কাছে আসতে পারে সাধারনত সেসব ধুমকেতু যেগুলো তাদের আবর্তনের গতিপথে অন্য কোন বস্তুর সাথে সংঘর্ষ বা কোন গ্রহের মহাকর্ষীয় প্রভাবে পড়ে নি।
যখন কোন ধুমকেতু সৌরজগতের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করার সময় কোন গ্রহের মহাকর্ষীয় প্রভাবের ভেতর পড়ে তখন তিন ধরনের ঘটনা ঘটতে পারেঃ

1) ধূমকেতুটি সরাসরি গ্রহে পতিত হবে এবং তার জীবনকালের সমাপ্তি তখনই ঘটবে।

2) গ্রহটির মহাকর্ষ তাকে প্রচন্ডবেগে ধাক্কা দেয়।
এতে ধুমকেতুটির আবর্তন গতি ও গ্রহের মহাকর্ষ কর্তৃক প্রযুক্ত ধাক্কার বেগ দুইএ মিলে এটি এতো বেশি গতিপ্রাপ্ত হয় যে সরাসরি তা সৌরজগত অতিক্রম করে চলে যেতে পারে।

3) অথবা, তার কক্ষপথ পরিবর্তিত হয়ে স্বল্প আবর্তনকাল বিশিষ্ট কক্ষপথে রুপান্তরিত হবে।
এমতাবস্থায়, পরবর্তীতে ধুমকেতুটি আর কয়েক হাজার বছর টিকে থাকে এবং সুর্যের চারপাশে তা যতোবার আবর্তন করবে
ততোবারই তার কিছু কিছু গাঠনিক বস্তু তথা ভর বিচ্ছিন্ন হয়ে হারাতে থাকে। পৃথিবী যখন সে কক্ষপথের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করে তখন সেসব ফেলে যাওয়া বস্তুর সাথে সংঘর্ষও হয়।

আসুন একটু বিশদ ভাবে জেনে নেয়া যাক ধুমকেতুর শেষ পরিণতি সম্পর্কে:

ধুমকেতুগুলো যতোবার সুর্যের চারপাশে আবর্তন করে এবং এতে যতোবার তারা সুর্যের নিকটবর্তী হয়, তাদের প্রত্যেক এ অনুসুর অবস্হানে কিছু কিছু মাত্রায় ভর হারায়।
সাধারনত একটি ধুমকেতু তার প্রত্যেক অনুসুর অবস্হানে তার মোট ভরের ৬০ ভাগের ১ ভাগ থেকে ১০০ ভাগের ১ ভাগ পর্যন্ত ভর হারায়।
এভাবে গড়ে একটি ধুমকেতুর বরফীয় অংশ সম্পুর্নরুপে নিঃশেষ হতে প্রায় ১০০ বার আবর্তন সম্পন্ন করতে পারে।

হ্যালির ধূমকেতু এখন পর্যন্ত প্রায় ২৭ বার আবর্তন করেছে সূর্যকে৷

এ হিসেবে হ্যালির ধুমকেতুর বরফ অংশ সম্পুর্ন রুপে নিঃশেষ হতে হতে আরও তা প্রায় ৭৩ বার আবর্তন করতে পারবে।
সুতরাং, এ হিসেবে হ্যালীর ধুমকেতু আর মোটামুটি ৭৩×৭৬= ৫৫৪৮ বছর সক্রিয় থাকবে।
এরপর তার বরফঅংশ বাষ্পীভূত হয়ে যাবে এবং তার নিউক্লিয়াস অংশটি তার বরফ অংশ হারিয়ে গ্রহানু সৃদশ বস্তুতে পরিণত হবে।
ধুমকেতু তার লেজ বা তার বৈশিষ্ট্যসুচক রুপ ধারনই করে মুলত তার বরফ অংশের কারণে।
তাই, এটি যখন নিঃশেষ হয়ে যায় ধুমকেতুও তার রুপ হারিয়ে ফেলে এবং তা গ্রহানুসদৃশ বস্তুতে পরিণত হয়।

আজ এ পর্যন্তই  ভালো লাগলে লাইক করুন এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
পড়ার  জন্য ধন্যবাদ

আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করতে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের ভিডিও গুলো দেখতে এখানে ক্লিক করুন