আলবার্ট আইনস্টাইন এর জীবন, কিছু রহস্য, ট্র্যাজেডি ও সাফল্য

"ছেলের মানসিক সমস্যার কারণে খুব কঠিন সময় পার করেছেন আলবার্ট আইনস্টাইন," বলেন জেভ রোজেনক্রান্স, আইনস্টাইন পেপার্স প্রজেক্টের একজন সম্পাদক এবং উপ-পরিচালক।

আলবার্ট আইনস্টাইনের কনিষ্ঠ সন্তানের নাম ছিল এডুয়ার্ড। তাকে আদর করে ডাকা হতো টেট।

এডুয়ার্ড (বামে) এবং হান্স আলবার্ট আইনস্টাইন শিশু বয়সে।

ছবির উৎস,GETTY IMAGES

এডুয়ার্ড (বামে) এবং হান্স আলবার্ট আইনস্টাইন, শিশু বয়সে।

শিশু কালেই তার স্বাস্থ্য নিয়ে পরিবারের ভেতরে উদ্বেগ ছিল। তবে তার মানসিক সমস্যার কথা জানা যায় আরো অনেক পরে। "তার জীবন ছিল অত্যন্ত করুণ," বলেন রোজেনক্রান্স।

আলবার্ট আইনস্টাইনের প্রথম স্ত্রী এবং পদার্থবিজ্ঞানী মিলেভা মারিচের সংসারে ছিল তিনটি সন্তান। তাদের কন্যা লিসেরেল সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না, এবং তার জীবন অনেকটাই রহস্যাবৃত।

লিসেরেল ছিল তাদের সবচেয়ে বড় সন্তান। মেঝ সন্তান হান্স আলবার্ট তার জীবদ্দশাতেই বিজ্ঞানী হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছিলেন। তবে পিতার মতো বিখ্যাত তিনি কখনোই হতে পারেন নি।

"আমার পিতার ব্যতিক্রমী হয়ে ওঠার পেছনে কারণ হল তিনি খুব সহজে হাল ছাড়তেন না। কিছু কিছু সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে তিনি নিজেকে বিলিয়ে দিতেন। এমন কী কোন ভুল সমাধান হলেও। তিনি বারবার চেষ্টা করতেন। একবার না হলে আবার করতেন," বলেন হান্স আলবার্ট।

"একমাত্র যে সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে তিনি হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন সেটা হচ্ছে আমি। তিনি আমাকে উপদেশ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু খুব শীঘ্রই তিনি বুঝতে পারেন যে আমি আসলে একজন একরোখা মানুষ এবং আমার পেছনে সময় দিলে সেটা হবে অপচয়," বলেন তিনি।

প্রথম সন্তান, লিসেরেল

মিলেভা মারিচ ও আলবার্ট আইনস্টাইন বিবাহবন্ধনে জড়ানোর আগেই ১৯০২ সালে তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম হয়েছিল। এই কন্যা সন্তানের নাম ছিল লিসেরেল।

"দুই বছর বয়স হওয়ার পর তার কী হয়েছে সেবিষয়ে আমরা আসলেই কিছু জানি না," বলেন রোজেনক্রান্স, "ইতিহাসে তিনি হারিয়ে গেছেন।"

আইনস্টাইন পেপার্স প্রজেক্ট তৈরিতে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন রোজেনক্রান্স। এই প্রকল্পের আওতায় নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিজ্ঞানীর শত শত দলিল ও কাগজপত্র সংগ্রহ করে সেগুলো অনুবাদ ও প্রকাশ করা হয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি এই প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে এবং তাতে সহযোগিতা করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি এবং হিব্রু ইউনিভার্সিটি অফ জেরুসালেম।

আলবার্ট আইনস্টাইনের সঙ্গে তার স্ত্রী মিলেভা মারিচ। ছবিটি ১৯০৫ সালে তোলা।

ছবির উৎস,GETTY IMAGES

আলবার্ট আইনস্টাইনের সঙ্গে তার স্ত্রী মিলেভা মারিচ। ছবিটি ১৯০৫ সালে তোলা।

আইনস্টাইনের যেসব চিঠিপত্র এবং দলিলপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে সেগুলো থেকে তার মানবিক দিক সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায়।

এসব চিঠিপত্র থেকেই জানা যায় লিসেরেলের কথা।

"তার স্বাস্থ্য কি ভাল? সে কি ঠিকমতো কান্নাকাটি করে? তার চোখগুলো কেমন? আমাদের মধ্যে কার সঙ্গে তার বেশি মিল? কে তাকে দুধ খাওয়ায়? সে কি ক্ষুধার্ত? তার মাথা নিশ্চয়ই পুরোপুরি ন্যাড়া। আমি তাকে এখনও চিনি না কিন্তু এর মধ্যেই তাকে আমি অনেক ভালবাসি," এসব কথাই সুইজারল্যান্ড থেকে আইনস্টাইন লিখেছেন মিলেভাকে, যিনি সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য সার্বিয়াতে চলে গিয়েছিলেন।

কিন্তু শিশু জন্ম দেওয়ার জন্য তিনি কেন সুইজারল্যান্ড ছেড়ে যান?

"আইনস্টাইনের মা মিলেভার সঙ্গে তার সম্পর্ককে একেবারেই মেনে নিতে পারেন নি," বলেন হানচ গুটফ্রয়েন্ড, আইনস্টাইনের ওপর সম্প্রতি একটি বই লিখেছেন তিনি।

গুটফ্রয়েন্ড বলেন, আইনস্টাইনের মা মনে করেছিলেন তার সন্তান ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে ফেলছে। "তিনি এমন হুমকিও দিয়েছিলেন যে মিলেভা যদি অন্তঃসত্ত্বা হন সেটা হবে একটা বিপর্যয়কর ঘটনা। সেসময় বিয়ের আগে সন্তান নেওয়া ছিল অনেক বড় কেলেঙ্কারি।"

ভায়োলিন বাজাচ্ছেন আইনস্টাইন।

ছবির উৎস,GETTY IMAGES

সন্তানদের জন্য ভায়োলিন বাজাতেন আইনস্টাইন।

"তোমার জন্য আমার প্রেম"

কিন্তু বাস্তব ঘটনা হচ্ছে এই দুজনের মধ্যে প্রেম ছিল অনেক গভীর, বলেন গুটফ্রয়েন্ড। ধারণা করা হয় আইনস্টাইনের বয়স যখন ১৯ এবং মিলেভার বয়স ২৩ তখন তাদের মধ্যে এই সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল।

এই দুজন পদার্থবিদ জুরিখ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে পড়াশোনা করতেন। সেসময় সেখানে মিলেভা ছিলেন একমাত্র নারী শিক্ষার্থী। এছাড়াও তিনি ছিলেন দ্বিতীয় নারী যিনি গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা শেষ করেছেন।

ওয়াল্টার আইজাকসন আইনস্টাইনের ওপর একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। নাম আইনস্টাইন: তার জীবন ও মহাবিশ্ব। তিনি বলেন, "আইনস্টাইনের চিঠিপত্র থেকে মিলেভার প্রতি তার প্রেম ভালবাসা সম্পর্কে আমরা জানতে পারি। আমরা এও জানতে পারি যে আইনস্টাইনের মা বউ হিসেবে মিলেভাকে মেনে নিতে পারেন নি।"

একটি চিঠিতে লেখা: "আমার পিতামাতা এমনভাবে কাঁদতেন যেন আমি মারা গেছি। তারা বারবার একই অনুযোগ করতেন যে তোমাকে ভালবেসে আমি নিজের জন্য লজ্জা বয়ে এনেছি। তারা মনে করেন তোমার স্বাস্থ্য ভাল নয়।"

কিন্তু আইনস্টাইন তার হৃদয়ের কথাই শুনেছিলেন। মিলেভা যখন গর্ভধারণ করেছেন তখন তিনি তাকে একটি চিঠিতে লিখে একজন ভাল স্বামী হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আলবার্ট আইনস্টাইন তার ছেলে হান্স আলবার্টের সঙ্গে ১৯৩৬ সালে।

ছবির উৎস,GETTY IMAGES

আলবার্ট আইনস্টাইন তার ছেলে হান্স আলবার্টের সঙ্গে ১৯৩৬ সালে।

আইনস্টাইন লিখেছেন: "আমাদের জন্য যেটা একমাত্র সমস্যা হয়ে থাকবে তা হলো লিসেরেলকে আমাদের সঙ্গে রাখা। আমি তাকে ত্যাগ করতে চাই না।"

আইনস্টাইন জানতেন তার সমাজে একজন "অবৈধ শিশুকে" সঙ্গে রাখা কতখানি কঠিন। এবং তার জন্য তো এটা আরো অনেক কঠিন ছিল কারণ তিনি সমাজে একজন সম্মানিত ব্যক্তিতে পরিণত হচ্ছিলেন।

দীর্ঘ নীরবতা

মনে করা হয় যে আইনস্টাইনের সঙ্গে লিসেরেলের কখনো সাক্ষাৎ হয়নি। মিলেভার যখন সুইজারল্যান্ডে ফিরে আসার সময় হয়, লিসেরেলকে তিনি সার্বিয়াতে তার আত্মীয় স্বজনের কাছে রেখে আসেন।

আইজাকসন ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে মিলেভার একজন ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হয়তো লিসেরেলকে দেখাশোনা করতো কিন্তু এই তথ্যও খুব একটা নিশ্চিত নয়।

"তাদের প্রেমপত্রগুলোতে যা কিছু লেখা হয়েছে সেগুলো থেকেই আমরা তাদের কন্যা সম্পর্কে জানতে পারি," বলেন গুটফ্রয়েন্ড, "কিন্তু একটা সময় পর তার কথা আর কখনো উল্লেখ করা হয়নি।"

"অনেক ইতিহাসবিদ ও সাংবাদিক সার্বিয়াতে গিয়ে তার বিষয়ে জানার চেষ্টা করেছেন, দলিলপত্র, রেকর্ড, আর্কাইভ- সব জায়গাতে তার খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন কিন্তু তারা তেমন একটা সফল হননি," বলেন রোজেনক্রান্স।

"তার কথা সবশেষ উল্লেখ করা হয় যখন তার বয়স দুই বছর। সেসময় তার জ্বর হয়েছিল। কিন্তু আমরা জানি না এর পরে সে বেঁচে ছিল কীনা," বলেন তিনি।

এর পর তাকে নিয়ে নানা ধরনের জল্পনা কল্পনা তৈরি হয়েছে: "হয়তো তাকে দত্তক দেওয়া হয়েছে, অথবা সে হয়তো মারা গেছে। আমরা ঠিক জানি না," বলেন রোজেনক্রান্স।

ধারণা করা হয় যে আইনস্টাইন, যিনি ১৯৫৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন, তিনি তার কন্যা সম্পর্কে কাউকে কখনও কিছু বলেন নি।

আইনস্টাইন পেপার্স প্রজেক্ট জানতে পেরেছে লিসারেল ১৯৮৬ সালেও বেঁচে ছিলেন। এসময় মিলেভার সাথে যেসব যোগাযোগ হয়েছে তার কিছু বিষয়ে এই প্রজেক্টে জানতে পেরেছে।

বই পড়ছেন আইনস্টাইন।

ছবির উৎস,GETTY IMAGES

আইনস্টাইনের বয়স যখন ২৬।

নিজের বাড়ি

আইনস্টাইন ১৯০৩ সালে বের্ন শহরে একটি ভাল চাকরি পান, মিলেভা ফিরে আসেন সার্বিয়া থেকে, এবং এর পর তারা বিয়ে করেন।

পরের বছর তাদের দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হয়। এই পুত্র সন্তানের নাম ছিল হান্স আলবার্ট। তাদের তৃতীয় ও শেষ সন্তান ছিল এডুয়ার্ড, তার জন্ম ১৯১০ সালে। পরিবারটি জুরিখে চলে যাওয়ার পর তার জন্ম।

"আমার মা যখন বাড়িতে ব্যস্ত থাকতেন তখন আমার পিতা তার কাজ রেখে দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আমাদের দেখাশোনা করতেন। আমাদেরকে তার হাঁটুর ওপর বসিয়ে তিনি দোল খাওয়াতেন। আমার মনে আছে তিনি আমাদের গল্প শোনাতেন এবং প্রায়শই ভায়োলিন বাজিয়ে আমাদের শান্ত রাখতে চেষ্টা করতেন," এভাবেই হান্স আলবার্ট উল্লেখ করেছেন বলে জানান আইজাকসন।

এডুয়ার্ড: শারীরিক ও মানসিক সমস্যা

এডুয়ার্ডের শৈশবের শুরুর দিকে তার স্বাস্থ্য খারাপ ছিল, প্রায়শই সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তো এবং দীর্ঘ সময় বিছানায় পড়ে থাকতো।

একবার, ১৯১৭ সালে, যখন তার ফুসফুসে সংক্রমণ হয়েছিল, আইনস্টাইন তার এক বন্ধুকে লিখেছিলেন: "আমার ছোট শিশুর অবস্থা আমাকে বেশ বিষণ্ণ করে রাখে।"

এসব সত্ত্বেও "সে একজন দারুণ ছাত্র ছিল। শিল্পকলার ব্যাপারে তার বিশেষ আগ্রহ। সে কবিতা লিখে এবং পিয়ানো বাজায়," আইনস্টাইনের ওপর এক গ্রন্থ 'এন আইনস্টাইন এনসাইক্লোপিডিয়া'তে একথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এডুয়ার্ড তার পিতার সঙ্গে সঙ্গীত ও দর্শন বিষয়ে আলোচনা করতেন এবং আইনস্টাইন একবার বলেছিলেন যে তার "ছেলে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করছে।"

ভালবাসার সমাপ্তি

আইনস্টাইন যতই তার বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজে ডুবে যেতে লাগলেন ততই মিলেভার সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটতে লাগল। এসময় তার এক কাজিন এলসার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয়।

পরিবারটি ১৯১৪ সাল পর্যন্ত বার্লিনে বসবাস করত। কিন্তু মিলেভার প্রতি আইনস্টাইনের অবজ্ঞামূলক আচরণের কারণে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কে তিক্ততা আরো বৃদ্ধি পায়। এবং এক পর্যায়ে মিলেভা তার সন্তানদের নিয়ে সুইজারল্যান্ডে ফিরে যান।

তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে ১৯১৯ সালে কিন্তু সন্তানদের কাছ থেকে দূরে থাকা আইনস্টাইনের জন্য খুব কষ্টকর ছিল, বলেন গুটফ্রয়েন্ড, ফলে তিনি তার দুই ছেলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতেন।

"তিনি খুব স্নেহময় পিতা ছিলেন, " বলেন রোজেনক্রান্স।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় যখনই পরিস্থিতি তৈরি হতো তিনি সন্তানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন, ছুটিতে বেড়াতে নিয়ে যেতেন এবং "যখন তারা বড় হয়ে গেল, তাদেরকে তিনি বার্লিনে আমন্ত্রণ জানাতেন একসঙ্গে সময় কাটানোর জন্য।"

"তাদের দুজনের সঙ্গেই আইনস্টাইনের ভাল যোগাযোগ ছিল, বিশেষ করে ছোট ছেলের সঙ্গে, তার কিশোর বয়সে।"

বাগানে হাঁটছেন আইনস্টাইন।

ছবির উৎস,GETTY IMAGES

আইনস্টাইন তার কন্যার কথা গোপন রেখে গেছেন।

তিনি বলেন, এডুয়ার্ডের সঙ্গে তার ঘন ঘন যোগাযোগ হতো এবং সেটা ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যায়ের। এমনকি তারা একে অপরের সমালোচনাও করতেন।

"এডুয়ার্ড আইনস্টাইনকে যা কিছুই পাঠাত সেটা তিনি খুব পছন্দ করতেন," সেটা যে শুধু তার লেখার উপহার সেজন্য নয়, তার চিন্তার গভীরতার কারণেও।

আইনস্টাইন ১৯৩০ সালে তাকে লিখেছিলেন, "জীবন হচ্ছে একটা সাইকেল চালানোর মতো। ভারসাম্য রাখতে হলে সেটাকে চালাতে হবে।"

বড় ছেলে হান্স আলবার্টের সঙ্গে আইনস্টাইনের সম্পর্ক খুব বেশি গভীর ছিল না। হান্স ছিল অনেকটা মাটির কাছাকাছি থাকা মানুষ, বলেন রোজেনক্রান্স।

"বিজ্ঞানের প্র্যাকটিক্যাল কাজ, উদ্ভাবন, কারিগরি - এসব বিষয়ে তার ঝোঁক ছিল," তার পিতার সঙ্গে খেলাধুলা থেকে এটা বোঝা যায়।

এর কয়েক বছর পর আইনস্টাইন তাকে যেসব চিঠি লিখতেন সেগুলোতে তিনি যে শুধু তার তত্ত্বের কথাই লিখতেন তা নয়, সেগুলো তিনি প্রমাণ করারও চেষ্টা করতেন। একই সঙ্গে কিভাবে একটি চাকরি সংগ্রহ করা যায় সেবিষয়েও তিনি পরামর্শ দিতেন।

রোগ নির্ণয়

এডুয়ার্ড আইনস্টাইন স্বপ্ন দেখতেন যে তিনি একজন মনোবিজ্ঞানী হবেন এবং সিগমুন্ড ফ্রয়েডর তত্ত্বের ব্যাপারে তার প্রচণ্ড আগ্রহ ছিল।

তিনি যখন মেডিসিন বিষয়ে পড়াশোনা করতেন, ১৯৩২ সালে, তাকে সুইজারল্যান্ডের একটি মানসিক চিকিৎসার ক্লিনিকে ভর্তি করাতে হয়েছিল। ১৯৩৩ সালে, তার বয়স যখন ২২ তখন ধরা পড়ে যে তিনি মানসিক রোগ স্কিটসোফ্রিনিয়াতে আক্রান্ত।

"এতে আইনস্টাইন প্রচণ্ড কষ্ট পান," বলেন গুটফ্রয়েন্ড।

"আমার দুটো ছেলের মধ্যে সবচেয়ে পরিমার্জিত, যাকে আমার নিজের চরিত্রের মতো বলে মনে হয়, সে অনিরাময়যোগ্য এক মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়েছে," আইনস্টাইনের লেখা একটি চিঠিতে একথা উল্লেখ করা হয়েছে।

জার্মানিতে নাৎসি বাহিনীর উত্থান ঘটে ১৯৩৩ সালে। তখন তিনি জার্মানি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যেতে বাধ্য হন।

"জার্মানি ছেড়ে যাওয়ার সামান্য আগে আইনস্টাইন এডুয়ার্ডের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সম্ভবত সেটাই ছিল তাদের শেষ দেখা," একথা উল্লেখ করা হয়েছে এক আইনস্টাইন এনসাইক্লোপিডিয়াতে, "এর পর পিতা ও পুত্রের আর কখনো দেখা হয়নি।"

দুঃখজনক সমাপ্তি

মূলত মিলেভা-ই এডুয়ার্ডকে দেখাশোনা করতেন, কিন্তু যখন তার অবস্থার আরো অবনতি ঘটতে থাকে- অথবা যখন মিলেভা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন- তখন তাকে একটি মানসিক চিকিৎসা কেন্দ্রে থাকতে হয়েছিল।

মিলেভা মারা যান ১৯৪৮ সালে। এর পর এডুয়ার্ডকে দেখাশোনা করার জন্য তার একজন আইনগত অভিভাবক নিয়োগ করতে হয়েছিল যার খরচ দিতেন আইনস্টাইন।

"আমার মনে হয় না সেসময় পিতা ও পুত্রের মধ্যে কোনো ধরনের যোগাযোগ হয়েছে," বলেন রোজেনক্রান্স।

আইজাকসনের মতে, এডুয়ার্ডের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের যেতে অনুমতি দেওয়া হয়নি।

জীবনের শেষ দিনগুলো তিনি একটি ক্লিনিকে কাটিয়েছেন এবং সেখানেই তিনি ১৯৬৫ সালে ৫৫ বছর বয়সে মারা যান।

দ্বিতীয় স্ত্রী এসলার সঙ্গে আইনস্টাইন।

ছবির উৎস,GETTY IMAGES

দ্বিতীয় স্ত্রী এসলার সঙ্গে আইনস্টাইন।

হান্স আলবার্ট

আইনস্টাইনের দ্বিতীয় সন্তান হান্স আলবার্ট জুরিখে সুইস ফেডারেল ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজিতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর বিষয়ে পড়ালেখা করেছেন।

"আমার আলবার্ট একজন সক্ষম ও দৃঢ় চরিত্রের ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছে," ১৯২৪ সালে একথা লিখেছেন গর্বিত আইনস্টাইন।

হান্স আলবার্ট ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি এবং ১৯৩৬ সালের মধ্যে তিনি ডক্টর অব টেকনিক্যাল সায়েন্সেস উপাধি অর্জন করেন।

পিতার পরামর্শে ১৯৩৮ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান এবং সেখানে গিয়ে তার পড়াশোনা চালিয়ে যান।

তার পড়াশোনার বিষয় ছিল নদী এবং সেখানে পলিমাটির চলাচল।

নদীর পানি কিভাবে পলিমাটি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যায় সে বিষয়ে আমরা বর্তমানে যা কিছু জানি তার ভিত্তি তৈরি করেছে এই হান্স আলবার্টের গবেষণা।

তার অবদানের প্রতি স্বীকৃতি জানাতে আমেরিকান সোসাইটি অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স ১৯৮৮ সালে হান্স আলবার্ট আইনস্টাইন পুরষ্কার ঘোষণা করে।

হান্স বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন।

"তার মধ্যে কিছু বিষয়ের সমন্বয় ঘটেছিল যা খুবই বিরল। বিজ্ঞানের গবেষণায় তিনি খুব দক্ষ ছিলেন, একই সঙ্গে ছিলেন একজন প্রকৌশলী এবং একজন চমৎকার শিক্ষক।"

আলবার্ট আইনস্টাইন ১৯৫৪ সালে লেখা এক চিঠিতে তার এ ছেলের প্রশংসা করতে গিয়ে বলেছেন, "সে আমার চরিত্রের প্রধান দিকগুলো পেয়েছে: লক্ষ্য অর্জনে সে নিজেকে পুরোপুরি নিয়োগ করতে পারে, একজন মানুষের পক্ষে যতটুকু করা সম্ভব।"

মতবিরোধ

সন্তানদের সঙ্গে আলবার্ট আইনস্টাইনের সম্পর্কে উত্থান পতন চোখে পড়ার মতো: কোন চিঠিতে তিনি খুব স্নেহপ্রবণ আবার কোন চিঠিতে তাকে খুব ঠাণ্ডা এবং জাজমেন্টাল বলে মনে হয়েছে।

"অন্যান্য পরিবারের মতোই, তাদের যেমন কঠিন সময় ছিল তেমনি ছিল ভাল সময়ও," বলেন রোজেনক্রান্স, "হান্স আলবার্টের সঙ্গে তার বেশ কয়েকবার সংঘাত হয়েছিল।"

কিশোর বয়সে হান্স আলবার্ট একবার তার পিতাকে বলেছিলেন যে তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিন্তু আলবার্ট আইনস্টাইন এতে খুশি ছিলেন না।

পরের কয়েক বছরে এই বিরোধ আরো বড়তে থাকে: "প্রথমত হান্স আলবার্ট যাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন আইনস্টাইন তাকে পছন্দ করেন নি।"

এলোমেলো চুলে আইনস্টাইনের অতিপরিচিত এক ছবি।

ছবির উৎস,GETTY IMAGES

এলোমেলো চুলে আইনস্টাইনের অতিপরিচিত এক ছবি।

এই ঘটনায় মিলেভা আইনস্টাইনের সঙ্গে একমত হয়েছিলেন কিন্তু হান্স আলবার্ট তাদের দুজনের মতামত উপেক্ষা করে ১৯২৭ সালে ভাষাবিজ্ঞানী ফ্রিয়েডা নেখ্টকে বিয়ে করেন।

পরে আইনস্টাইন সন্তানের সিদ্ধান্ত মেনে নেন এবং ফ্রিয়েডাকে পুত্রবধূ হিসেবে গ্রহণ করেন। তাদের ঘরে তিনটি সন্তানের জন্ম হয়।

গুটফ্রয়েন্ডের মতে তারা দুজন একে অপরের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করলেও তারা পৃথক জীবন যাপন করেছেন: হান্স আলবার্ট থাকতেন পশ্চিম উপকূলে আর আইনস্টাইন ছিলেন পশ্চিম উপকূলের প্রিন্সটনে।

"এছাড়াও, আইনস্টাইন এর মধ্যেই তার দ্বিতীয় সংসার শুরু করে দিয়েছেন (তার কাজিন এলসা এবং এলসার আগের ঘরের দুই কন্যাসহ), বলেন তিনি।

ফ্রিয়েডার মৃত্যুর পর হান্স আলবার্ট বায়োকেমিস্ট এলিজাবেথ রবোজকে বিয়ে করেন, যার সঙ্গে তিনি তার বাকি জীবন কাটিয়েছেন। ১৯৭৩ সালে তিনি মারা যান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। তার বয়স হয়েছিল ৬৯।

আইনস্টাইন একবার মিলেভাকে বলেছিলেন "তার জীবনের অন্যতম ভাল একটি দিক হচ্ছে তার দুই সন্তান, যারা তার মৃত্যুর পরেও আইনস্টাইনের জীবন বহন করবে," বলেন আইজাকসন।

কিন্তু বিখ্যাত এবং প্রতিভাবান ব্যক্তির সন্তান হিসেবে তাদের জীবন সহজ ছিল না। এডুয়ার্ড নিজেই লিখেছেন: "কখনও কখনও এরকম একজন গুরুত্বপূর্ণ পিতা থাকার সমস্যা আছে। কারণ তার নিজেকে খুব অগুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়।"

আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতাবাদ তত্ত্ব প্রকাশিত হওয়ার এক বছর আগে হান্স আলবার্টের জন্ম হয়েছিল।

আলবার্ট আইনস্টাইন তার পরবর্তী জীবনে স্বীকার করেছেন মিলেভা কতো ভালভাবে তার সন্তানদের বড় করেছেন।

আমি মনে করি না যে আইনস্টাইন নিজেকে খুব ভাল একজন স্বামী হিসেবে মনে করতেন। আমার মনে হয় তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে স্বামীর চেয়ে পিতা হিসেবেই তিনি ভাল ভূমিকা পালন করেছেন," বলেন রোজেনক্রান্স।

সূত্রঃ BBC

Like Our Facebook Page and See Our Videos on YouTube

 
ধন্যবাদ 

আলবার্ট আইনস্টাইন এর জীবনে কিছু মজার ঘটনা

বিশ্বের অন্যতম বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন জন্মেছিলেন ১৮৭৯ সালের ১৪ মার্চ। মাত্র কয়েকদিন আগেই বিজ্ঞানীরা তাঁর আপেক্ষিকতা তত্ত্বকে নির্ভুল হিসেবে মেনে নিয়েছেন।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মহাকর্ষ তরঙ্গের ওপর ভর করেই চলছে মহাবিশ্ব। পৃথিবীর ঘূর্ণন, গ্রহ-নক্ষত্রের গতি সব কিছুই ঘটছে মহাকর্ষীয় তরঙ্গের কারণে। বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী আইনস্টাইন তাঁর আপেক্ষিকতা তত্ত্বেই এই তরঙ্গ সম্পর্কে ধারণা দিয়েছিলেন। মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্ত করার মাধ্যমে আইনস্টাইনের তত্ত্ব নির্ভুল প্রমাণিত হয়। তবে এত কঠিন কঠিন তত্ত্ব যে বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছেন, তাঁর জীবনে কিন্তু মজার ঘটনা কম নেই। সেসব মজার ঘটনার কয়েকটি দেওয়া হলো নিচে।
কথা বলা:
আইনস্টাইন সম্পর্কে বলা হয়, তিনি কথা বলতে শুরু করেন দেরিতে; চার বছর বয়সে। আর পড়তে শেখেন সাত বছর বয়সে। চার বছর পর্যন্ত যখন তিনি কথা বলছিলেন না, তখন তাঁর মা-বাবা বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। একদিন হঠাত্‍ খাবার টেবিলে মূক আইনস্টাইন বলে উঠলেন, 'স্যুপটা খুবই গরম'! তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, 'এতদিন কেন কথা বলোনি?' 'এতদিন তো সব কিছুই ঠিকঠাক চলছিল', আইনস্টাইন তাঁর জীবনের দ্বিতীয় বাক্যটি বললেন।
কোথায় যাচ্ছিলাম:
বিজ্ঞানীরা বরাবরই কিছুটা ভুলোমনা হয়ে থাকেন, তবে এদিক থেকে নোবেলজয়ী বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী আইনস্টাইন বোধ হয় একটু বেশিই এগিয়ে ছিলেন! একবার তিনি ট্রেনে চড়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। চেকার এসে টিকেট দেখতে চাইলেন। কিন্তু আইনস্টাইন কিছুতেই টিকেট খুঁজে পাচ্ছিলেন না। শুধু বিড়বিড় করছেন, 'কোথায় যে রাখলাম টিকেটটা!' চেকার বললেন, 'স্যার, আমি আপনাকে চিনতে পেরেছি। আপনি নিশ্চয়ই টিকেট কেটেই উঠেছেন। আপনাকে টিকেট দেখাতে হবে না।' আইনস্টাইন চিন্তিত মুখে বললেন, 'না না! ওটা তো খুঁজে পেতেই হবে! না পেলে জানব কী করে, আমি কোথায় যাচ্ছিলাম!'
জ্যোতির্বিদ;
আলবার্ট আইনস্টাইন একবার বিজ্ঞানীদের সম্মেলনে যোগ দিতে যান। সেখানে একজন বিশিষ্ট জ্যোতির্বিদ মন্তব্য করেন, 'অসীম বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে একজন জ্যোতির্বিদ গুরুত্বহীন একটি বিন্দু ছাড়া কিছুই নন।' জবাবে আইনস্টাইন বলেন, 'তবে আমার ব্যাপারটি হচ্ছে কি, কোনো মানুষকে যদি আমি এ রকম গুরুত্বহীন বিন্দু মনে করি, দেখি যে ওই ব্যক্তি একজন জ্যোতির্বিদ।'
খালি চোখে:
আইনস্টাইন একবার রেলগাড়ির ডাইনিংয়ে রাতের খাবার খেতে এসে দেখলেন, চশমা ফেলে এসেছেন। খালি চোখে মেন্যুও পড়া যাচ্ছে না। তিনি ওয়েট্রেসকে ডেকে বললেন, দয়া করে এটা পড়ে দাও। ওয়েট্রেস তাঁর দিকে সহানুভূতির দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, 'দুঃখিত স্যার, আমার পড়াশোনার দৌড়ও আপনার মতোই।'
টিকেট:
বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীর টিকেট বিড়ম্বনার আরেক গল্প এটি। দিন কয়েকের জন্য প্রথমবারের মতো এক বড় শহরে বেড়াতে গিয়েছেন আইনস্টাইন। এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করে বাসে চেপে হোটেলে ফিরছেন। বাসের কন্ডাক্টর টিকেট চাইলে তিনি খুবই বিব্রতবোধ করলেন। এ পকেট সে পকেট হাতড়ে কোথাও টিকেট পেলেন না। কন্ডাক্টর তাঁকে বিব্রত হতে দেখে বললেন, 'ঠিক আছে, আপনাকে আর ব্যস্ত হতে হবে না। টিকেটটা কোথাও পড়ে গেছে হয়তো।' এ কথা শুনে আলবার্ট আইনস্টাইন বিচলিত হয়ে বললেন, 'আরে না, বলছ কি তুমি! টিকেট না পেলে আমি হোটেলে ফিরব কী করে? টিকেটের উল্টো পাশে হোটেলের নাম-ঠিকানা লেখা ছিল যে!'
মনের ভাব:
এক বক্তৃতা সভায় আলবার্ট আইনস্টাইনকে একনজর দেখানোর জন্য বাবা তাঁর ছেলেশিশুকে উঁচু করে ধরলেন আইনস্টাইনের সামনে। শিশুটি তখন তারস্বরে কাঁদছে। বৃদ্ধ আইনস্টাইন শিশুটির গাল টিপে দিয়ে বললেন, 'এত বছর বয়সের মধ্যে একমাত্র তুমিই অকপটে আমার সম্পর্কে মনের ভাব প্রকাশ করলে। ধন্যবাদ।'
পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র:
এক পার্টিতে আলবার্ট আইনস্টাইনকে চিনতে না পেরে এক তরুণী জিজ্ঞেস করল, 'আপনি কী করেন?' আইনস্টাইন বললেন, 'আমি পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র।' তরুণী অবাক, 'কী! এই বয়সে আপনি এখনো ছাত্র? আমি তো গত বছর পড়াশোনার পাট চুকিয়ে ফেলেছি।'
আপেক্ষিক তত্ত্বের বিরোধিতা:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আইনস্টাইন যখন বিজ্ঞান ছেড়ে প্রায় নির্বাসিত জীবন-যাপন করছিলেন, তখন হিটলারপন্থী ১০০ জন অধ্যাপক একটি বই প্রকাশ করেন। যার বিষয়বস্তু ছিল আপেক্ষিক তত্ত্বের বিরোধিতা। আইনস্টাইন ব্যাপারটি জেনে মন্তব্য করেন, 'আমার তত্ত্ব ভুল প্রমাণ করার জন্য একজন অধ্যাপকই তো যথেষ্ট ছিল।'
ফ্যাশন:
আলবার্ট আইনস্টাইন এর  'থিওরি অব রিলেটিভিটি' তত্ত্ব আবিষ্কারের পর সেই সময়ে অল্প কয়েকজন বিজ্ঞানী শুধু বুঝতে পেরেছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই আবিষ্কারের ফলেই তাঁর জনপ্রিয়তা সর্বস্তরে পৌঁছে যায়। এক চুরুট কোম্পানি তো তাদের চুরুটের নামই 'রিলেটিভিটি চুরুট' রেখে দেয়। সে সময় এক সাংবাদিক আইনস্টাইনকে প্রশ্ন করলেন, 'আচ্ছা বলুন তো, থিওরি অব রিলেটিভিটি নিয়ে চারদিকে এত আলোচনা হচ্ছে কেন?' আইনস্টাইন মৃদু হেসে উত্তর দিলেন, 'মানুষ ফ্যাশন পছন্দ করে। আর এ বছরের ফ্যাশন হলো থিওরি অব রিলেটিভিটি। তাই এ নিয়ে এত আলোচনা।'
প্রশ্নোত্তর:
একবার আলবার্ট আইনস্টাইন এর এক ছাত্র তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসে অনুযোগের সুরে বলল, 'স্যার, এবারের পরীক্ষার প্রশ্নগুলো প্রায় সবই গতবার পরীক্ষায় এসেছিল। হুবহু একই প্রশ্ন। তা হতে পারে-আইনস্টাইন বললেন, কিন্তু খাতা দেখতে গিয়ে লক্ষ করলাম উত্তরগুলো সব আগের বছরের চেয়ে আলাদা।
টেলিফোন নম্বর:
আলবার্ট আইনস্টাইন এর এক সহকর্মী একদিন তাঁর টেলিফোন নম্বরটা চাইলেন। আইনস্টাইন তখন টেলিফোন গাইডে নিজের নম্বর খুঁজতে শুরু করেন। এদিকে সময় নষ্ট হচ্ছে দেখে সহকর্মী বিরক্ত হয়ে বললেন, 'তুমি তোমার নিজের নম্বরটাও মনে রাখতে পারো না?' এ কথায় আইনস্টাইন উল্টো যুক্তি দেখিয়ে বললেন, 'যে জিনিসটা টেলিফোন গাইডে লেখা আছে, সেটা আমি খামোখা মুখস্থ করতে যাব কেন?'
রও পড়ুন: আলবার্ট আইনস্টাইনের জীবন, কিছু রহস্য, ট্র্যাজেডি ও সাফল্য
 
বিয়ে:
বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের মেধার তুলনায় তাঁর চেহারা ছিল নিতান্তই সাদামাটা। তারপরও একবার এক সুন্দরী অভিনেত্রী প্রস্তাব দেন, 'চলুন আমরা বিয়ে করে ফেলি। তাহলে আমাদের সন্তানের চেহারা হবে আমার মতো সুন্দর আর মেধা হবে আপনার মতো প্রখর।' আইনস্টাইনের নির্বিকার উত্তর, 'কিন্তু যদি ঠিক এর উল্টোটা ঘটে, তবে কী হবে?' Like our Facebook Page and See our Videos on YouTube

টেলিপ্যাথি কী? টেলিপ্যাথি’র মাধ্যমে কীভাবে যোগাযোগ হয়ে থাকে?

>>> মনে মনে বিশেষ মানুষটির কথা ভাবছিলেন। হঠাৎ বেজে উঠল ফোন। স্ক্রিনে কলারের নাম ভেসে উঠতে দেখেই নিশ্চয় হাঁ হয়ে গেলেন? কী করে সম্ভব? ফোন করেছে সেই বিশেষ পুরুষ বা নারীটি! অথচ তার ফোন করার কোনও সম্ভবনাই ছিল না! কীভাবে ঘটল এমন? তবে শুধু বিশেষ মানুষটি নয়, এমনকী প্রিয় বন্ধু, আত্মীয়ের মধ্যেও এমন ঘটনা ঘটতে দেখা গিয়েছে। এছাড়া খুব নিকট আত্মীয়ের বিপদে পড়ার মতো খারাপ স্বপ্ন দেখা ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে!

কেন এমন হয়?

কিছু কিছু মনোবিজ্ঞানী বলেন, এমন হয় মেন্টাল টেলিপ্যাথির কারণে। কেউ খুব নিবিড়ভাবে অপর ব্যক্তি সম্পর্কে ভাবলে, সেই চিন্তা স্পর্শ করে ওই ব্যক্তিকে। এভাবেই অদ্ভুত যোগাযোগ হয়ে যায় মাঝে মধ্যে।

প্রশ্ন হল কী এই মেন্টাল টেলিপ্যাথি?

মেন্টাল টেলিপ্যাথি: এই প্রক্রিয়ায় কোনও এক ব্যক্তি তার মানসিক অনুভূতি, ভাবনা, ছবি, কথা ইত্যাদি অপর এক ব্যক্তির চেতনায় প্রেরণ করে। অন্যপ্রান্তে থাকা অপর ব্যক্তি ওই চিন্তা, কথা, ভাবনা ও ছবি গ্রহণ করতে পারলে বা বুঝতে পারলে হয় টেলিপ্যাথিক যোগাযোগ। এই প্রক্রিয়ায় ফোন, ইমেল, বা অন্য কোনও মাধ্যমের সাহায্য নেওয়া হয় না। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে মানসিক যোগাযোগ। এই ধরনের মানসিক যোগাযোগ হতে পারে পৃথিবীর দুই প্রান্তে থাকা দুটি মানুষের সঙ্গে। আবার পাশাপাশি দুটি ঘরে থাকা ব্যক্তির মধ্যেও এমন সম্পর্ক স্থাপন সম্ভব। মজার ব্যাপার হল, কিছু কিছু গবেষক বলছেন, মেন্টাল টেলিপ্যাথি হতে পারে দুজন পরিচিত লোকের মধ্যেই যেমন স্বামী-স্ত্রী, প্রেমিক প্রেমিকা, দুই বন্ধু, মা ও সন্তান। তবে সম্পূর্ণ অপরিচিত লোকের সঙ্গেও টেলিপ্যাথিক যোগাযোগ হওয়াও অসম্ভব নয়। অনেকেই মনে করেন যে, প্রত্যেক মানুষেরই টেলিপ্যাথির মাধ্যমে যোগাযোগ করার ক্ষমতা রয়েছে। তবে টেলিপ্যাথির মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করার জন্য দরকার তীব্র মনোসংযোগ।

যোগাযোগ স্থাপনের পদ্ধতি—

মনকে একাগ্র করুন

আগেই বলা হয়েছে, টেলিপ্যাথিক যোগাযোগের জন্য দরকার নিবিড় মনোনিবেশের। তাই আগে মনকে একাগ্র করতে জানতে হবে। মন শান্ত করার জন্য আগে নিরিবিলি জায়গা বাছুন। চোখ বন্ধ করুন। চোখের সামনে একটি আলোক বিন্দুকে কল্পনা করুন। মিনিট কুড়ি এভাবে ধ্যান করুন ও ওই আলোকবিন্দু ছাড়া মন থেকে বাকি সব ধরনের চিন্তা দূরে সরান। শ্বাস নিন লম্বা ও ধীরে। ধ্যান করার সময় আঁটসাঁট জামাকাপড় পরবেন না। শরীরে কষ্ট হলে মনকে একাগ্র করা সম্ভব নয়। ধ্যান করার একটাই কারণ— চিন্তাকে একমুখী করা। বলা হয়, যাঁরা প্রতিদিন ধ্যান করেন, তাঁরা সহজেই টেলিপ্যাথির মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন। অবশ্য আপনার আগে থেকেই মন শান্ত থাকলে ধ্যান করতে নাও হতে পারে।

যোগাযোগ স্থাপন

যে ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইছেন, তাকে কল্পনা করুন। মনে করুন, সে ঠিক আপনার সামনে দাঁড়িয়ে বা বসে রয়েছে। মনের চোখ দিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখুন তাঁর চোখের রং, দেহের আকার, উচ্চতা, চুলের রং। আপনার বার্তার গ্রাহক যদি খুব দূরে থাকে, সেক্ষেত্রে তার ছবি চোখের সামনে রেখেও বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করতে পারেন। এবার কল্পনা করুন, আপনার বার্তা গ্রাহকের সঙ্গে যখন সামনা-সামনি কথা হয়, তখন মনের মধ্যে কেমন আবেগ কাজ করে। সেই অনভূতিগুলি ফের জাগিয়ে তুলুন। বিশ্বাস করতে শুরু করুন যে ওই ব্যক্তির সঙ্গে সত্যিই আপনি যোগাযোগ স্থাপন হয়েছে। সে আপনার যোগাযোগ করার চেষ্টায় সাড়া দিচ্ছে।

বার্তা প্রেরণ

এবার কোনও কথা বা বস্তুর সম্পর্কে ভাবুন। ধরা যাক আপনি বার্তা গ্রাহককে আপেলের ছবি পাঠাতে চান। মনে মনে আপেলের ছবি তৈরি করুন। আপেলের রং, তার আকার সম্পর্কে ভাবুন। চাইলে আপেলে কামড় বসিয়ে তার স্বাদও টের পেতে পারেন। এবার কল্পনা করুন আপেলটি সত্যি সত্যিই, আপনার মন থেকে তার মনে ভেসে যাচ্ছে। এই সময় মুখে ‘আপেল’ শব্দটিও বলতে পারেন। মনের চোখে দেখুন, ওই ব্যক্তি সত্যিসত্যিই আপনার পাঠানো ‘আপেলটি’ দেখতে পাচ্ছে। তার মুখের ভঙ্গিমায় সেকথা বোঝা যাচ্ছে। এই ভাবে নিজের মনের কথাও বার্তা গ্রাহককে পাঠাতে পারেন। এইভাবে নিজের বার্তা পাঠানো হয়ে গেলে শান্তভাবে শ্বাস নিন ও ছাড়ুন। শরীর আলগা করে দিন। যেন বার্তাটি আপানার মন ও শরীর থেকে ভেসে তার কাছে পৌঁছে গিয়েছে। আর আপনার কোনও দায় নেই।

অনুশীলন করুন

বার্তা আদৌ পৌঁছেছে কি না তা অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করে। প্রথমত বার্তা গ্রাহক কোন অবস্থায় রয়েছেন। তার মানসিক অবস্থা কেমন। গত কয়েকদিনের মধ্যে আপনার সঙ্গে তার মনোমালিন্যের ঘটনা ঘটেছে কি না ইত্যাদি। তাছাড়া, আদৌ টেলিপ্যাথিক যোগাযোগে আপনি সফল হচ্ছেন কি না তাও জানা দরকার। তাই দূরে থাকা কোনও আত্মীয় বা বন্ধুর সঙ্গে টেলিপ্যাথির মাধ্যমে যোগাযোগ করার আগে, কাছাকাছি থাকা কোনও এক আত্মীয়ের সঙ্গে বিষয়টি প্র্যাকটিস করুন। দু’জনে একই সময়ে, পাশাপাশি দুটি ঘরে টেলিপ্যাথির মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বসুন। আত্মীয়কে বার্তা প্রেরণ করুন। সে কোনও বার্তা বুঝতে পারলে খাতায় লিখে রাখতে বলুন। প্রথম দিকে হতাশ হতে পারেন। তবে খাতায় সে কী লিখেছে সেটিও দেখুন। যেমন আপনি লাল রঙের আপেলের কথা ভেবেছেন ও তাকে বার্তা পাঠিয়েছেন। আর সে খাতায় লিখেছে ‘লাল’। এমন হলে বুঝতে হবে, ফলাফল খারাপ নয় মোটেই। এইভাবে যোগাযোগ পোক্ত হতে শুরু করলে টেলিপ্যাথির মাধ্যমে দু’জন আলাদা জায়গায় বসে কাটাকুটি খেলতে পারেন। সলভ করতে পারেন একই পাজল! এই ভাবে যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব বুঝলে দূরে থাকা ব্যক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব।

মনে রাখবেন;

মেন্টাল টেলিপ্যাথি তে, দুটি মানুষের মধ্যে মানসিক নৈকট্য থাকাটা খুব জরুরি। কারণ, নৈকট্য না থাকলে ফলাফল সম্পর্কে আপনি জানতেই পারবেন না। বলা হয়, টেলিপ্যাথির মাধ্যমে কানে শুনতে পান না বা চোখে দেখতে পান না এমন মানুষের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব। এমনকী মনুষ্যেতর প্রাণীর সঙ্গেও টেলিপ্যাথিক যোগাযোগ করা যায়। পোষা কুকুরের সঙ্গে এক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মালিক যেই মাত্র অফিস থেকে ঘরে ফেরার কথা ভাবছেন তখনই ঘরে বন্দী কুকুরটি উঠে দাঁড়াচ্ছে! সূত্রঃ ইন্টারনেট আরও পড়ুন Like our Facebook page & see our videos on YouTube

What is quantum physics actually mean?

Put simply, it’s the physics that explains how everything works: the best description we have of the nature of the particles that make up matter and the forces with which they interact.

Quantum physics underlies how atoms work, and so why chemistry and biology work as they do. You, me, and the gatepost – at some level at least, we’re all dancing to the quantum tune.

If you want to explain how electrons move through a computer chip, how photons of light get turned to electrical current in a solar panel or amplify themselves in a laser, or even just how the sun keeps burning, you’ll need to use quantum physics.

The difficulty – and, for physicists, the fun – starts here. To begin with, there’s no single quantum theory. There are quantum mechanics. the basic mathematical framework that underpins it all. which was first developed in the 1920s by Niels Bohr, Werner Heisenberg, Erwin Schrödinger, and others.

It characterizes simple things such as how the position or momentum of a single particle or group of few particles changes over time.

But to understand how things work in the real world, quantum mechanics must be combined with other elements of physics – principally, Albert Einstein’s special theory of relativity, which explains what happens when things move very fast – to create what is known as quantum field theories.

Three different quantum field theories deal with three of the four fundamental forces by which matter interacts: electromagnetism, which explains how atoms hold together; the strong nuclear force, which explains the stability of the nucleus at the heart of the atom, and the weak nuclear force, which explains why some atoms undergo radioactive decay.

Over the past five decades or so these three theories have been brought together in a ramshackle coalition known as the “standard model” of particle physics.

 

For all the impression that this model is slightly held together with sticky tape, it is the most accurately tested picture of matter’s basic working that’s ever been devised. Its crowning glory came in 2012 with the discovery of the Higgs boson, the particle that gives all other fundamental particles their mass, whose existence was predicted on the basis of quantum field theories as far back as 1964.

Conventional quantum field theories work well in describing the results of experiments at high-energy particle smashers such as CERN’s Large Hadron Collider, where the Higgs was discovered, which probe matter at its smallest scales.

But if you want to understand how things work in many less esoteric situations – how electrons move or don’t move through solid material and so make a material a metal, an insulator, or a semiconductor, for example – things get even more complex.

The billions upon billions of interactions in these crowded environments require the development of “effective field theories” that gloss over some of the gory details.

The difficulty in constructing such theories is why many important questions in solid-state physics remain unresolved – for instance why at low temperatures some materials are superconductors that allow current without electrical resistance, and why we can’t get this trick to work at room temperature.

But beneath all these practical problems lies a huge quantum mystery. At a basic level, quantum physics predicts very strange things about how matter works that are completely at odds with how things seem to work in the real world. Quantum particles can behave like particles, located in a single place, or they can act like waves, distributed all over space or in several places at once.

How they appear seems to depend on how we choose to measure them, and before we measure they seem to have no definite properties at all – leading us to a fundamental conundrum about the nature of basic reality.

This fuzziness leads to apparent paradoxes such as Schrödinger’s cat, in which thanks to an uncertain quantum process a cat is left dead and alive at the same time. But that’s not all. Quantum particles also seem to be able to affect each other instantaneously even when they are far away from each other.

This truly bamboozling phenomenon is known as entanglement, or, in a phrase coined by Einstein (a great critic of quantum theory), “spooky action at a distance”. Such quantum powers are completely foreign to us, yet are the basis of emerging technologies such as ultra-secure quantum cryptography and ultra-powerful quantum computing.

But as to what it all means, no one knows. Some people think we must just accept that quantum physics explains the material world in terms we find impossible to square with our experience in the larger, “classical” world. Others think there must be some better, more intuitive theory out there that we’ve yet to discover.

In all this, there are several elephants in the room. For a start, there’s a fourth fundamental force of nature that so far quantum theory has been unable to explain.

Gravity remains the territory of Einstein’s general theory of relativity, a firmly non-quantum theory that doesn’t even involve particles.

Intensive efforts over decades to bring gravity under the quantum umbrella and so explain all of fundamental physics within one “theory of everything” have come to nothing.

Read more about quantum physics in bangla: টেলিপ্যাথি কী? টেলিপ্যাথি’র মাধ্যমে কীভাবে যোগাযোগ হয়ে থাকে?

Meanwhile, cosmological measurements indicate that over 95 percent of the universe consists of dark matter and dark energy. stuff for which we currently have no explanation within the standard model, and conundrums such as the extent of the role of quantum physics in the messy workings of life remain unexplained.

The world is at some level quantum but whether quantum physics is the last word about the world remains an open question. Richard Webb