যে প্রশ্ন করে মানুষের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পারি?
ব্যক্তিত্ব:
মানুষ সামাজিক জীব। সমাজের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আমরা বিভিন্ন ধরনের আচরণ করে থাকি। কিন্তু কেন আমরা একই
পরিস্থিতিতে সবাই এক ধরনের আচরণ করিনা, এর কারণ হচ্ছে আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিত্বই আলাদা।
বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশগত উপাদান:
ব্যক্তির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশগত উপাদানের সমন্বয়েই এর গঠন হচ্ছে । ব্যক্তিত্বের গঠন ও বিকাশ কিভাবে হয় তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তত্থ্য দেয়া হয়েছে। এই তথ্য গুলো অনেক কারণে সমালোচিত হলেও মনোবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, সমাজবিদ শিক্ষকদের কাছে এগুলোর মুল্য অপরিসীম শিশুদের আচরণের অন্তর্নিহিত কারণ খুঁজতে গেলে এই তথ্য গুলো আমাদের দিকনির্দেশনা দেয়।
লিঙ্গভেদ:
লিঙ্গভেদে ব্যক্তিত্বের পার্থক্য হয় কি না তা নির্ণয় করার লক্ষ্যে নানা গবেষণা হয়েছে। কিছু সমালোচনা সত্তে¡ও প্রমাণিত হয়েছে যে ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে ব্যক্তিত্বের, সংলক্ষণগুলো ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় উপস্থিত থাকে। লিঙ্গভেদে ব্যক্তিত্ব ভিন্ন হবার কারণে, বুদ্ধিবৃত্তীয় কৃতিত্বের ক্ষেত্রে ভিন্নতা দেখা যায়।
ব্যক্তিত্ব জানার জন্য প্রশ্ন:
শুধু ব্যক্তিত্ব জানার জন্য কাউকে কোনো প্রশ্ন করা উচিত নয় এবং এমনটা করলে তেমন লাভ হবে বলেও মনে হয় না। কারণ কারও বাহ্যিক প্রতিক্রিয়া দেখেই তার মানসিকতা নিখুঁতভাবে সনাক্ত করা সম্ভব নয়৷ পৃথিবীতে এমন মানুষও আছে যারা বেশ ভালোভাবেই ভালো মানুষের মত প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে এবং ভালো মানুষের বেশ ধরতে পারে৷
ব্যক্তিত্ব বিষয়টা খুব ঝামেলার। ব্যক্তিত্বের সর্বজনগ্রাহ্য কোন সঙা নেই। "ব্যক্তিত্ব বলতে আপনি কি বোঝেন" এই প্রশ্ন করা হলে আপনি কিছুটা হলেও বিভ্রান্ত হবেন, কারণ আপনি স্পষ্ট কোন ধারণা দিতে পারবেন না।
ব্যক্তিত্ব কি?
যদিও ব্যক্তিত্ব বিষয়টি সঙায়ন প্রায় অসম্ভব তবুও সহজ সরল ভাষায় বলা যায় "যে এক বা একাধিক গুন আপনাকে একজন ব্যক্তি হিসেবে অন্য একজন ব্যক্তি থেকে আলাদা করে সেটাই আপনার ব্যক্তিত্ব!"
তবুও একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব সম্পকে জানতে পারবেন প্রশ্ন করে নয় বরং প্রশ্নের উত্তর শুনে।একজন ব্যক্তিত্ববান মানুষের সকল প্রশ্নের উত্তরই হবে মার্জিত। তাঁর পক্ষে অথবা বিপক্ষে কোন উত্তরই অসৌজন্যমূলক হবে না। যে প্রশ্নের উত্তর তিনি জানেন না সেক্ষেত্রেও আপনি তার কাছ থেকে উস্কানীমূলক আচরণ পাবেন না।
ব্যক্তিত্বের মূল উৎস হচ্ছে মানসিকতা। মনোবিজ্ঞানে যে উপাদন দিয়ে ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে তার পিছনে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বুদ্ধি এবং আবেগের যার মাধ্যমে গড়ে ওঠে মানসিকতা। মানসিকতা আবার নিয়ন্ত্রিত হয় মন দ্বারা, যেখানে জ্ঞানের ভূমিকা আছে। জ্ঞান যেমন মনের প্রধান উপাদান, জ্ঞান এখানেও তেমনি ব্যক্তিত্বের মূল উপাদান হিসেবে ভূমিকা পালন করে। ব্যক্তিত্বের দ্বিতীয় প্রধান উপাদান হচ্ছে অনুভূতি। যাদের অনুভূতি কম তারাই সাধারণতঃ ব্যক্তিত্বহীন হতে পারে। জ্ঞানীরা অনুভূতিসম্পন্ন বলেই তাদের মান সম্মানবোধ থাকে প্রখর। এবং মান সম্মান সম্পর্কে সচেতন বলেই ব্যক্তিত্বকে ছোট করতে পারে এমন কাজ থেকে তারা বিরত থাকেন। জ্ঞানী লোক ব্যক্তিত্বহীন হতে পারে না কিন্তু ব্যক্তিহীন লোক পশু হতে পারে।আসলে, ব্যক্তিত্ব কোন ব্যক্তির সংস্কৃতি। এটার মাধ্যমে তাঁর জীবনের সকল কিছুই প্রকাশ পায়। তার পোষাক থেকে রুচি পর্যন্ত সবকিছু। ওজন থেকে জ্ঞানের বহর।
আরও পড়ুনঃ- ফাইভার এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একাধিক প্রশ্নের উত্তর
- আলবার্ট আইনস্টাইনের এর যত প্রেম ও পরকীয়া
- আলবার্ট আইনস্টাইনের জীবন, কিছু রহস্য, ট্র্যাজেডি ও সাফল্য
- আলবার্ট আইনস্টাইন এর জীবনে কিছু মজার ঘটনা
- টেলিপ্যাথি কী? টেলিপ্যাথি’র মাধ্যমে কীভাবে যোগাযোগ হয়ে থাকে?
ধন্যবাদ।